Skip to main content

বই পড়া

 প্রিয় বেকবেঞ্চার,
আপা না ভাই কি বলে সম্বোধন করবো বুঝসিনা। আমি একজন কর্মজীবী পুরুষ,  বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ৮/৯টা বেজে যায়. তারপর বাচ্চাকে পড়ানো, স্ত্রীকে ঘরের কাজে টুকিটাকি সাহায্য করতে করতে রাত হয়ে যায়। কিন্তু আমি বই পড়া ভীষণ ভাবে মিস করি, বিয়ের আগে রাত জেগে হলেও বই নিয়ে কাটিয়ে দিতাম। আমি বুঝতে পারছিনা কিভাবে আমি সময় বের করবো এবং পুরনো অভ্যাসে ফিরে যাবো? 
- রাতুল হাসান।
১৬.১০.১৮


ধন্যবাদ রাতুল,
মজার ব্যাপার হচ্ছে, পৃথিবীতে কর্মঠ জাতি হিসেবে যারা পরিচিত। সেই জাপানিজ বা জার্মানরাই কিন্তু তুলনামূলক ভাবে বেশি বই পরে। বই পড়া কিন্তু হবি না, এটা ভালোভাবে বেচে থাকার একটা প্রক্রিয়া। আপনার নিয়মিত মোবাইল/ইমেইল বা দৈনিক পত্রিকা চেক করার মতোই বই পড়ার একটা অভ্যাসের প্রয়োজন। বিল গেটস সারাদিন এত এত কাজ করার পরও প্রতিরাতে নিয়ম করে একঘন্টা বই পড়েন, বই হাতেই ঘুমাতে যান। এভাবেই তিনি বছরে গড়ে প্রায় ৫০টি বই পড়ে শেষ করেন। শুধু তাই না, ভালো লাগার বই গুলির নাম সবার সাথে শেয়ারও করেন। আপনি এখন যা করতে পারেন:

  • সারাদিন কি করেন তার একটা ডিটেইল স্কোর কার্ড লিখুন। 
যেমনঃ ৭ টায় . ঘুম থেকে উঠা, বাথরুমে যাওয়া ৭.৩০ অফিসের প্রস্তুতি, বাচ্চার স্কুলের জন্য সাহায্য, নাস্তা করা. ৮টায় বাসা থেকে বের হওয়া, ইত্যাদি .... .. 
  • এবার দেখুন সকাল থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত ফাঁকে ফাঁকে কখন আপনি অপ্রয়োজনীয় বা কোনো বদঅভ্যাসে সময় দিন। 
  • আর ঠিক কোন কোন সময় আপনি চুপ করে বসে থাকেন বা অযাচিত ভাবনা আপনাকে গ্রাস করে নেয়। 
  • ওই সময় গুলিতে একটু একটু করে আপনার সঙ্গে থাকা প্রিয় বইটা পড়ার চেষ্টা করুন। 
  •  প্রতি রাতে নিয়ম করে বাড়ির সবাই বই হাতে বিছানায় যান, প্রথমে সন্তানের সাথে একটা বয়সপযোগী গল্পের বই পড়ুন। ঠিক যেমনটি আমাদের দাদি/নানি আমাদের গল্প শোনাতেন। সন্তান যেন বই পড়াকে পারিবারিক আচার হিসেবেই দেখতে পায়।  
* এভাবে কিছুদিন চলার পর আমাকে জানান কোনো পরিবর্তন হলো কিনা। ফলাফলের উপর নির্ভর করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ধাপ নির্ধারণ করা হবে। 
ভালো থাকবেন। 
১৮.১০.১৮
   

Comments

Popular posts from this blog

দাঁতে নখকাটা

 ভাইয়া, কিছুতেই দাঁতে নখ কামড়ানো থামাতে পারছিনা :( বয়ফ্রেণ্ডের সামনে মাঝে মাঝে  লজ্জায় পড়ে যাই। কি করবো বলুনতো? অনেক চেষ্টা করছি। - নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। ১৮.১০.১৮ ধন্যবাদ আপা, আমরা প্রায়ই এই ধরণের চক্রের মধ্যে পরে যাই, যা থেকে কিছুতেই বের হতে পারিনা। এটা এক প্রকার অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার। লক্ষ্য করুন মানসিক কোন অবস্থায় আপনি বেশি বেশি দাঁত দিয়ে নখ কাটেন। অনেকেই মানসিক অস্থিরতা কাটাতে বা গভীর চিন্তায় মগ্ন হলে  মুখে হাত দিয়ে নখ কামড়ান। অস্থিরতা কাটানোর জন্য আপনি প্রয়োজনে একটা নতুন অভ্ভাস গড়ে তুলুন। যেমন ধরুন গভীর ভাবে নিঃশ্বাস নেয়া এবং আস্তে আস্তে ছেড়ে দেয়া। এটা আপনার দেহ মনে এক ধরণের প্রশান্তি এনে দিবে। আপনার শরীরের মাংস পেশীকে শিথিল করবে।   আর  যদি আপনি আপনার অভ্ভাসের পিছনে কোনো সুস্পষ্ট প্রভাব খুজে না পান। তাহলে দেখুন তো মুখে হাত দেয়ার আগে আপনি কিছুক্ষন হাতের নখ গুলি লক্ষ্য করেন কিনা, যে অংশটা একটু বড় মনে হচ্ছে সেটিকেই কি প্রথম কাটেন?  হাতের কাছে সব সময় একটা নেইল ক্লিপার রাখুন। বাজারে ছোট কিছু নেইল ক্লিপার পাওয়া যায়, নবজাতকদের জিনিসপত্র যে...

ব্যায়াম

 সালাম নিবেন, আমার শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশি আছে। কয়েকদিন জিম এ যাই এবং ছেড়ে দেয় , মাঝখান থেকে শুধু শুধু জিমকে টাকা দিলাম কিন্তু ওজন কমছে না। খাওয়া দাওয়া, অন্যরা যা খায় তাই, আপনাদের কোনো পরামর্শ থাকলে জানাবেন,  যদিও জানিনা আপনারা এই বিষয়ে বলেন কিনা।  -পারভেজ আখন্দ। ১৮.১০.১৮ ধন্যবাদ পারভেজ, আমি জানিনা আপনার ঠিক কি পরিমান ওজন কমানো প্রয়োজন। নিদ্রিষ্ট কিছু এক্সারসাইজের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্খিত পেশিগুলোকে পুনর্গঠন বা অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলতে পারি। এই বিষয়ে আমরা বিশেষজ্ঞ নই। তবে আপনি যদি জিমে যাওয়াকে একটা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে চান বা খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তন বা অন্যকিছু যা আপনাকে অতিরিক্ত মেদবহুল হওয়া থেকে দূরে রাখবে সেই পরামর্শ চাইলে আমাদেরকে পরিষ্কারভাবে লিখে জানান।  আপনার পরবর্তী লেখার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।   ভালো থাকবেন।  ১৮.১০.১৮